-->

Friday, February 21, 2020

বিখ্যাত চীনের পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ এর জীবনীর নানার অজানা তথ্য
হিউয়েন সাঙ ৬০২ খ্রিস্টাব্দ সেখানকার চীনের লুজু প্রদেশে বতমানে যা হিঙ্গা প্রদেশ নামে পরিচিত । সেখানটা গুওরি টাউন নামে পরিচিত একটি সম্ভ্রান্ত ও উচ্চ শিক্ষিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন । 
তার পূর্বপুরুষ চেনশিং  ছিলেন হাঙ্গ সম্রাজের একজন মন্ত্রী । তার বাবা চেঙ্গ হুই সুই সম্রাজের একজন ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন । বাল্যকাল থেকে তিনি ধর্মগ্রন্থ । বিশেষ করে চইনিক গ্রন্থসমূহ এবং রাজনীতিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং কনফুসিয়াসের দর্শন এর অনুরক্ত হয়ে পড়েন এবং হিউয়েন সাঙ তার বাবার কাছ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করেন । 
এই সময় তার বড় ভাই শেঙ্গ শো বোদ্ধ ধমে অনুরক্ত হয়ে বোদ্ধ বৃক্ষু হয়ে যান। হিউয়েন সাঙ বড় ভাইয়ের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বোদ্ধ বৃক্ষু  হওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন কিন্তু তার বাবা তাতে সম্মতি প্রদান করেননি । ৬১১ খ্রিস্টাব্দে তার বাবার মৃত্যু হলে তিনি লোয়াং প্রদেশে তার বড় ভাইয়ের সাথে ৫ বছর কাটিয়ে দেন। এরও ২ বছর এরপর 618 খ্রিস্টাব্দের দিকে যখন চীনের জুই সম্রাজ ভেঙ্গে পরে তখন তিনি এবং তার ভাই তাক সাম্রাজ্যের রাজধানী চেঙ্গানে চালিয়ে যান ।  এখানে একটি বোদ্ধ আশরমে আরো দুই বছর অতিবাহিত করতে হয় তাদেরকে এরপর ৬২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি একজন পুরো বৌদ্ধ বৃক্ষু হয়ে ওঠেন এবং সেই সময় তিনি বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার জন্য ভারত বর্ষ ভ্রমণের সুযোগ গ্রহণ করেন । ভারতবর্ষে ভ্রমণের প্রস্তুতি জন্য তিনি তাং সম্রাজ্য রাজধানীতে চলে যান এবং সেখানে সংস্কৃত ভাষার উপর পড়ালেখা শুরু করেন তাং আরো বছর ঘুরে বেড়ান এবং ফারিয়েন কে  ভারত ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে অবগত হতে থাকেন অবশেষে ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে একটি স্বপ্ন দেখে যাত্রার প্রতি আকর্ষণ আরো জোরালো হয়ে উঠে তার। ওই সময় তাং সাম্রাজ্যের তুকিদের যুদ্ধ চলছিল । তাই তাং রাজা তাংজং তাদের নাগরিকদের বিদেশযাত্রা নিষেধ করে দিয়েছিলেন কিন্তু হিউয়েন সাঙ শহরের সদর দরজার প্রহরীদের বুঝিয়ে শহর থেকে যেতে সক্ষম হন তারপর তিনি ৬২৯ কোং হি প্রেদেশে চলে আসেন।  সেখানে গোবি মরুভূমি পার হয়ে তুরফান পৌঁছান 630 খ্রিস্টাব্দে  তুরফান থেকে আরো পশ্চিমে অগ্রসর হয়ে তিনি হাজির হয়ে সেখানে উচা হয়ে পৌঁছান এরপর উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্ডে আসেন। সেখান থেকে আরো পশ্চিমে পার্শিয়া নিয়ন্ত্রিত সমাক্ষন শহরে পৌঁছে ছিলেন তিনি । সমাক্ষন কিছু ধ্বংস হয়ে যাওয়া বৌদ্ধ স্থাপনা দেখে বিশমিত হন। এখান থেকে পশ্চিমের আমুদরিয়া ভ্রমন করেন। সেখান থেকে সেখানে তিনি প্রায় ১হাজার বৌদ্ধ বৃক্ষু সাথে সাক্ষাৎ করেন এরপরে তিনি খুদু শহরে যান। সেখানকার প্রিন্জ তার তার দূরের অন্তটিক্রিয়া দেখার জন্য কিছু কাল তিনি সেখানেই অবস্থান করে কাটিয়ে দেন । সেখানে তিনি ধম সীমা নামের এক বিখ্যাত বৌদ্ধ বৃক্ষু সাথে সাক্ষাৎ লাভ করেন সদ্যকৃত প্রিন্জ তারতুর উপনেবিক পরবর্তীতে আফগানিস্তানের নব বিহার পরিদর্শন করেন । এই বিহারে তিনি অনেক বৌদ্ধ মট ও মহাগ্রন্থে অনুসারি ৩ হাজার বৌদ্ধ বিক্ষুকে দেখতে পান। এই বিহারে কিছুদিন কাটিয়ে তিনি বর্তমানে জালালাবাদ নামে পরিচিত এখানে চলে আসেন এরপর আদীপুর ত্যাগ করে তিনি তৎকালীন গান্ধার রাজ্যের রাজধানীর পেশুয়ারের দিকে অগ্রসর হন সেখানে যাওয়ার সময় তিনি অনেক বৌদ্ধ মট এবং ধ্বংসস্তূপ দেখতে পান। পেশুয়ারে তখন বৌদ্ধের জন্য সুসময় ছিল না। এখানে তিনি কনিষ্ট স্তূপ পরিদশন করেন। এরপর তিনি সোয়াদ উপাত্যকা ভ্রমন করেন। সেখানে প্রায় ১৪০০ পরিত্যাক্ত বৌদ্ধ মট দেখতে পান। সোয়াদ উপাত্যকা দিয়ে সিন্ধু নদ পাড় হয়ে কাশ্মীরের আসেন ৬৩১ খ্রিস্টাব্দের দিকে এখানে ৬৩২ থেকে ৬৩৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত উদাত্ত বিক্ষুদের সাথে মহাজান উডয়ন করে কাটান। এরপর তিনি লাহুর ও মতিপুরের দিতে রওনা দেন। এ অঞ্চলেন মট ও স্তূপ পরিদশন ৬৩৪  খ্রিস্টাব্দে পাঞ্জাবের জলান্ধরে আসেন। এখান থেকে মধুরা  ভ্রমণ করেন । এই অঞ্চলের ভ্রমন করে চলে আসেন এবং ৬৩৫ খ্রিস্টাব্দে গঙ্গা নদীর তীরবত্তি প্রায় সকল বৌদ্ধ মঠ এবং স্তূপ পরিদর্শন করেন 637 খ্রিস্টাব্দের বৌদ্ধে জন্মস্থান মৌ-মিনি এবং কুশি নগর স্থান পরিদর্শন করেন তিনি এরপর বারাণসী বৈশালী, পাটালশী এবং বুদ্ধগয়া ভ্রমণ করেন। এখানে তিনি বিহারের নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আসেন এবং প্রায় দুই বছর যুক্তিবিদ্যা, ব্যাকরণ, সংস্কৃত ভাষা নিয়ে লেখাপড়া করেন ।  638 খ্রিস্টাব্দের দিকে বঙ্গদেশের পণ্য বদন রাজ্যের রাজধানী পুন্দ্রনগর যেটি বর্তমানে বাংলাদেশের মহাস্থানগড় নামে পরিচিত সেখানে তিনি ভ্রমণ করেন এরপর তিনি নওগাঁ জেলার সোমপুর মহাবিহার পরিদর্শন করেন সে সময় বঙ্গ দেশ সম্পর্কে তিনি যে তথ্য লিপিবদ্ধ করে যান তা থেকে জান। তা থেকে জানা যায় দেশটির পরিমীম ছিল প্রায় ৪ হাজার লী। ৬ লী কে এক মাইল এবং এর রাজধানী পরিসীমা প্রায় ৩০ লী। দেশটিকে ঘনবসতিপূর্ণ এবং সব ধরনের খাদ্য পরিপূর্ণ হিসেবে দেখতে পান। এদেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রাপ্ত সুস্বাদু পানশা ফল কাঁঠাল বিশেষভাবে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি পূণ্যবধন সম্পর্কে আরও বলেন এখানকার মানুষের বিদ্যার কদর করে । বঙ্গ দেশ ভ্রমন শেষে তৎকালীন কামরূপের বৌদ্ধ রাজা ভাস্কর বর্মন এর নিমন্ত্রণে মরূপের রাজধানী প্রাগ জ্যতিশপুর তথা বতমান গোও হাটি ভ্রমণ করেন তিনি এই পথ যাত্রা কালে তিনি প্রশস্ত নয়শত নদী পার হন ধারণা করা হয় এই নদীতে করোতোয়া এরপর তিনি রাজা হর্ষবর্ধনের আমন্ত্রণে কোনজে যে আসেন । পরবর্তীতে তিনি পর্যায়ক্রমে অন্ধ্রপ্রদেশের অমরাবতী এবং নাগাডু কণবিহার ভ্রমণ করেন সর্বশেষ তিনি ভ্রমণ করেন পাহলোভীদের রাজস্থানী কানচি এরপর খাইভার পাশ দিয়ে ভারত ত্যাগ করেন ভারতবর্ষের চীনের পথ পাড়ি দিয়ে তিনি সেখানে পৌঁছান ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দে পরবর্তীতে ৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভারত ভ্রমণের সময় তার অর্জিত জ্ঞানকে তিনি সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার অক্লান্ত পরিশ্রম করে যান।

My writings and videos are tailored just for your needs. What other topics would you like to write about or video on? Please comment your valuable feedback. You can join my social site.

0 comments:

Post a Comment

Contact Us

Phone :

+88 016 3670 21**

Address :

Jamalpur, Mymensingh,
Bangladesh

Email :

zahangiralamjp@gmail.com